Friday, November 14, 2014

মেকআপ ছাড়াই নিজেকে সুন্দর রাখার টিপস

মেকআপ ছাড়াও ত্বকের যত্ন নিয়ে আমরা নিজেকে সুন্দর রাখতে পারি। শরিরকে নানা ভাবে পরিপাটি করলে রাখলে মেকআপ এর কোন প্রয়োজন হয় না। শরিরকে মেকআপ ছাড়া সুন্দর রাখতে কত গুলোটিপস নিচে দেওয়া হল।


১. সব সময় মুখের ত্বকের যত্ন নিন। দিনে তিন থেকে চারবার পানি দিয়ে মুখ ধুতে ভুলবেন না।
২. চোখে অযথা হাত দিয়ে ঘষাঘষি করবেন না। এতে আপনার চোখের চারপাশে কালো দাগ পড়তে পারে যা হাজার চেষ্টা করেও পরে দূর করতে পারবেন না।
৩. চুলগুলো সব সময় পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন। খেয়াল রাখুন ভেজা চুল কখনো বেঁধে রাখবেন না । জোরে চুল আঁচড়াবেন না।
৪. হাতের ও পায়ের যত্ন নিন। হাত পায়ের নখগুলো সুন্দর করে পরিষ্কার করে রাখুন। আর যদি হাতের নখ বড় রাখতে চান সেক্ষেত্রে সেগুলোর একটি সুন্দর শেপে রাখতে চেষ্টা করুন।
৫. দাঁত ব্রাশ করতে ভুলবেন না। রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে ও সকালে অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করবেন। তবে মনে রাখুন বেশী বেশী দাঁত ব্রাশ করার ফলে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়।
৬. দিন রাত মিলিয়ে সীমিত কফি ও চা পান করার চেষ্টা করুন। পরিমিত ঘুমান, অর্থা দিন রাত মিলিয়ে মিনিমাম ৮ ঘণ্টা ঘুমান।
৭. বেশী বেশী ফলমূল ও শাক সবজি খান এবং জাংক ফুড বর্জন করে চলুন। বেশী পরিমাণে পানি পান করুন।
৮. কখনোই অতিরিক্ত ঢিলেঢালা পোশাক বা অতিরিক্ত টাইট ফিটেড পোশাক পরবেন না।
৯. নিজের ভাবমূর্তি বজায় রেখে চলুন। মুখে সব সময় একটি আলতো হাসি ধরে রাখুন।
কিন্তু উপরের টিপসগুলো মেনে চললে আপনি মেকআপ সাজগোজ ছাড়াই সব সময় সুন্দর আর ফিট থাকতে পারবেন। মেকআপ কেবল আপনার মুখের সাময়িক সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে পারে কিন্তু ভিতরের না।

Monday, November 3, 2014

যোগ-ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জানবার বিষয


যোগ-ব্যায়াম ৎসরের ছেলেমেয়ে থেকে ৮০/৯০ বৎসরের স্ত্রী পুরুষ পর্যন্ত সকলেই অভ্যাস করতে পারে তবে বয়স এবং স্ত্রী-পুরুষ ভেদে বিভিন্ন যোগ-ব্যায়াম তার মাত্রা ঠিক করতে হয়


২। থেকে /১০ ৎসর বয়স পর্যন্ত ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আমাদের পরের প্রকাশিত যোগ-ব্যায়ামগুলি অর্ধমাত্রায় অভ্যাস করবে; অর্থা যে ব্যায়াম প্রতিবারে ৩০ সেকেন্ড করে বার অভ্যাস করতে বলা হয়েছে, প্রথম প্রথম সেগুলি প্রতিবারে ১৫ সেকেন্ড করে বার অভ্যাস করবে। পরে বয়স সামর্থ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আসন অভ্যাসের সময় বাড়িয়ে প্রতিবারে ৩০ সেকেন্ড করে বার অভ্যাস করবে। প্রত্যেক ব্যায়াম শিক্ষার্থীকে মনে রাখতে হবে:- দিনে একত্রে / টির বেশী যোগ-ব্যায়াম করার প্রযোজন হয় না
৩। নিয়মিত আসন অভ্যাসের পর যখন একটি আসনে ৩০ সেঃ থাকার ক্ষমতা হবে তখন অভ্যাসকারী আসনের ভঙ্গিমায় থাকাকালীন :- () প্রথম সেঃ উক্ত আসনের প্রণালী চিন্তাকরে আসন ভঙ্গিমার সংশোধন করব। () পরের সেঃ মনকে দম নেওয়া ছাড়ার প্রতি মনোনিবেশ করবে। এবং ধীরে ধীরে অনেকসময় ধরে দম নিতে ছাড়তে হবে। () পরের সেঃ শরীরের সমস্ত পেশী স্নায়ুকে শিথিল করার চেষ্টা করবে। () পরের ১০ সেঃ উক্ত আসনের উপকারিতার কথা চিন্তা করবে এবং নিজের দেহ মনে তা উপলব্ধি করবে। () এবং শেষের সেঃ একটা ঐশ্বরিক আনন্দ উপভোগ করার চেষ্টা করবে। () দম নিওয়া ছাড়া কোন অবস্থায় বন্ধ থাকবে না। এই ভাবে ৩০ সেঃ থাকলে সুফল আনেক বেশী পাবে
৪। ১০ থেকে ১৩/১৪ ৎসর বয়স পর্যন্ত ছেলেমেষেরা এবং কিশোর কিশোরীরা প্রথম প্রথম প্রতি আসন প্রতিবার ৩০ সেকেন্ড করে বার অভ্যাস করতে পারে, কিন্তু রোগারোঘ্যের জন্য ব্যায়ামকারীরা প্রতি আসনই প্রতিবার ৩০ সেকেন্ড করে বার অভ্যাস করবে। অসুবিধা বা কষ্ট হলে নিজের সামর্থ্য মত করবে
৫। অনেকদিন অভ্যাসের ফলে অনেকক্ষণ একাসনে থাকবার ক্ষমতা হলে আসন অভ্যাসকারীরা আসনটি পর পর বার অভ্যাস না করে / মিনিট ধরে একবার আসনটি অভ্যাস করে / মিনিট শবাসন অভ্যাসের পর অন্য আসন অভ্যাস করতে পারে। গৃহীদের পক্ষে কোন আসনই এককালে মিনিটের বেশি অভ্যাস করা উচিত নয়
 ৬। আসন অভ্যাসকারীর আসন অভ্যাসকালে যে আসনটি অভ্যাস করছে তার উপকারিতা সম্বন্ধে চিন্তা করা এবং নিজ শরীর মনের উপর তার প্রভাব উপলব্ধি করার চেষ্টা করা উচিত
৭। যোগ-ব্যায়াম অভ্যাসের নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। অভ্যাসকারী নিজ সুবিধা মত সকালে গোসলের আগে, সন্ধায় বা রাত্রে খাবার কিছু আগে, আসন অভ্যাস করতে পারে। তবে সকালে ছাড়া অন্য কোন সময় খালি পেটে ব্যায়াম অভ্যাস করতে নেই। অন্য সময়ে-ক্ষুধার্ত অবস্থায় বা ভরা পেটে যোগ-ব্যায়াম অভ্যাস করা স্বাস্থের পক্ষে ক্ষতিকর। হাল্কা কিছু খাবার আধ ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা পরে, বা ভরা পেটে খাবর / ঘন্টা বাদে, যোগ-ব্যায়াম অভ্যাস করা স্বাস্থ্যকর। যোগ-ব্যায়াম অভ্যাসের ১০/১৫ মিনিট পর গোসল বা আহার করা যায়
৮। কম্বলের উপর বা পাতলা গদির উপর আসন অভ্যাস করা বিধেয়
৯। ভিতরে কৌপিন বা আটো গেঞ্জির জাঙ্গিয়া পরে উপরে আন্ডারওয়ার বা হাল্কা হাফপ্যান্ট পরে খোলা জায়গায় সাধারণতঃ যোগ-ব্যায়াম অভ্যাস করবে-তবে কয়েকটি বিশেষ আসন অভ্যাসকালে কৌপিন বা জাঙ্গিয়া না পরলে ক্ষতি নেই, যথা:- গোমুখাসন, ভদ্রাসন, মুলবন্ধামুদ্রা বন্ধত্রয় ইত্যাদি
১০। আসন-ব্যায়াম অভ্যাসকালে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিকভাবে নিতে ছাড়তে হয়-োকান অবস্থাতেই দম বন্ধ করা উচিত নয়
১১। প্রতি আসন অভ্যাসের পর কিছুক্ষণ (২০ থেকে ৩০ সেঃ) শবাসন অভ্যাস-সাধারণ নিয়ম। স্বামী কুবলায়ানন্দ বলেন, শীর্যাসন অভ্যাসের পর শবাসন অভ্যাস করবে না কারণ শীর্ষাসন অভ্যাসকালে মাথায় যে রক্ত ওঠে শীর্ষাসনের পর শবাসন অভ্যাসে তা নামতে দেরী হওয়ার মাথায় ভার বোধ হয়
১২। যোগ-ব্যায়াম অভ্যাস করবার আগে কয়েকটি খালি হাতে ব্রায়াম (ওয়ার্মিং আপ) করা অধিক স্বাস্থ্যকর এবং দ্রুততর ফল লাভের সহায়ক
১৩। খালিহাতে ব্যায়াম অভ্যাসের পর আসন অভ্যাসের আগে থকে মিনিট শবাসন অভ্যাস বিশেষ প্রয়োজন। শবাসন অভ্যাস কালে আমারা যে পরিমান শারীরিক মানসিক শিথিলতা অর্জন করব-তা বজায় রেখেই আসন অভ্যাস করা উচিত। আমরা সাধারণত মিনিটে ১৬/১৮ বার শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে থাকি। শাবাসন করার সময় এর গতি কমিয়ে ১০/১২ বার চেষ্টা করলে সুফল অনেক বেশী পাওয়া যাবে
১৪। কেবল রোগীরা যারা রোগারোগ্যের জন্য যোগ-ব্যায়াম অভ্যাস করবে, তারা বিশেষজ্ঞের পরামর্শানুযায়ী প্রতি আসনের শেষে প্রয়োজন মত ২০/৩০ সেকেন্ড শবাসন অভ্যাস করবে
১৫। যোগ-মুদ্রা ব্যতীত অন্য কোন মুদ্রা (বিফোর পিউবার্টি) ১০/১২ সরের কম বয়স্ক ছেলেদের, এবং ঋতু প্রতিষ্ঠিত হযনি এমন মেয়েদের অভ্যাস করা উচিত নয়
১৬। প্রথম শিক্ষার্থীদের পক্ষে এক সঙ্গে প্রতিদিন / টির বেশী আসন বা মুদ্রা অভ্যাস করার প্রয়োজন হয় না। আসন অভ্যাসকারীর পুস্তকে প্রদত্ত আসন মুদ্রার গুণাগুণ বিবেচনা করে নিজেদের প্রযোজন মত / টি আসন মুদ্রা বেছে নিয়ে অভ্যাস করা উচিত
১৭। যোগ-ব্যায়াম শুদ্ধভাবে এই পুস্তকে প্রদত্ত নির্দেশমত অভ্যাস করতে চেষ্টা করা উচিত। তবে অনেক সময প্রথম অভ্যাসকারীর পক্ষে ঠিক শুদ্ধভাবে সকল আসন অভ্যাস করা সম্ভব হয় না। প্রথম অভ্যাসকালে অল্প অল্প ভুল হলে শরীরের ক্ষতি হবে মনে করে, আদৌ যোগ-ব্যায়াম অভ্যাস না করা যুক্তিযুক্ত নয়। প্রথম প্রথম অভ্যাসের সময় যদি কোন ভুল হয় তাহলে পুনঃপুনঃ চেষ্টার দ্বারা ভুল সংশোধন করে শুদ্ধভাবে এই ব্যায়াম অভ্যাস করতে চেষ্টা করা উচিত্। আসন অভ্যাসে সামান্য ভুল হলেও কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা নেই
১৮। অনিদ্রায় স্বপ্নদোষে শোবার আগে গোমুখাসন অভ্যাস বিশেষ ফলপ্রদ। এই সময কৌপিন বা জাঙ্গিয়া পরিধানের প্রয়োজন হয় না
১৯। মেয়েদের ঋতুকালে / দিন ব্যায়াম অভ্যাস করা নিষেধ। এছাড়া সমস্ত ব্যায়াম অভ্যাসকারীর সপ্তাহে দিন ব্যায়াম অভ্যাসের পর একদিন ব্যায়াম অভ্যাস বন্ধ রাখা স্বাস্থ্যকর
২০। নারী গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শে মাস প্রযন্ত যোগ-ব্যায়াম অভ্যাস করতে পারে এবং প্রসবান্তে মাস পর আবার যোগ-ব্যায়াম অভ্যাস আরম্ভ কররে প্রসবান্তে থলথলে ঝোলা পেট স্বাভাবিক অবস্থা প্রাপ্ত হয় এবং দেহের আট্সাট্গঠন আবার ফিরে আসে 

Sunday, November 2, 2014

যোগ আসন......।

সভ্যতার সূচনা লগ্ন থেকেই দৈহিক শক্তির জন্যে শরীরচর্চা এবং নিজেকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্যে সৌন্দর্যচর্চার সূত্রপাত হয়। প্রাচীন দ্রাবিড় সভ্যতা ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় শরীর ও সৌন্দর্যচর্চা ছিলো শিক্ষার এক প্রকার অঙ্গ। পরবর্তী প্রতিটি সভ্যতায় আমরা দেখতে পাই এর ছাপ।
আধুনিক কালে বিজ্ঞান আমাদের দৈহিক শ্রমের সুযোগ অনেক কমিয়ে দেয়ার শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের প্রয়োজন আরো বেড়ে গেছে। তাছাড়া যারা দৈহিক শ্রম করেন তাদেরও দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-যেমন: হার্ট, লিভার, কিডনি, অম্ল্যাশয় ও অন্যান্য এন্ডোক্রাইন গ্ল্যান্ডগুলো অর্থা দেহের হরমোন প্রবাহ গতিশীল্ ও সুষম রাখার জন্যেও প্রয়োজন বিশেষ ব্যায়াম। কারণ দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্রাঙ্গ সুস্থ ও গতিশীল রাখতে না পারলে পেশিশক্তি এক সময় বিপর্যস্ত হয়ে যায়।।
দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা গতিশীল করে শরীরকে সুস্থ রেখে নিজেকে যেকোনো সাধনা বা কর্মোপযোগী করে তোলার লক্ষেই আজ থেকে পাচ হাজার বছর আগে দ্রাবিড় সাধকরা যোগ ব্যায়াম উদ্ভাবন করেন। বিশ শতকে পাশ্চাত্যে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনেক উন্নত, সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ হয়েছে। কিন্তু যোগ ব্যায়ামের চেয়ে উন্নত, সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ হয়েছে। কিন্তু যোগ ব্যায়ামের চেয়ে উন্নত কোনো ব্যায়াম তারা আবিস্কার করতে পারে নি। তাই পাশ্চাত্যে সুস্থ থাকার জন্যে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই যোগ ব্যায়ামের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। প্রতি বছরই যোগ ব্যায়ামের প্রতি আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এমনকি হাপানি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগ নিরাময়ে অত্যন্ত সাফল্যজনকভাবে যোগ ব্যায়ামের বিভিন্ন আসনকে প্রয়োগ করা হয়েছে।
মাংশপেশীর পুষ্টিসাধনের জন্য নানা রকম ব্যাযাম অভ্যাস করা যায়- যেমন : খালিহাতে ব্যায়াম, বারবেল নিয়ে ব্যায়াম, প্যারালাল বার, রিং, কুস্তি, ইত্যাদি। কিন্তু যৌগিক ব্যায়াম দেহাভ্যন্তরের স্নায়ু মন্ডলীকে, প্রস্থিগুলিকে ও অন্যান্য যন্ত্রগুলিকে যে রকম পুষ্ট ও সবল করতে পারে, অন্য কোন ব্যায়াম সে রকম করতে পারে না। স্নায়ুমন্ডলী আমাদের এই দেহযন্ত্রকে চালিত করে। মস্তিস্ক স্নায়ুমন্ডলীর কেন্দ্রস্থল। এই স্থান থেকে বিভিন্ন স্নায়ুর সাহায্যে যে আদেশ প্রেরিত হয়-তা মাংসপেশী ও বিভিন্ন পদ্ধতি আবিস্কৃত হয়নি, যা মস্তিস্কের মধ্যে প্রচুর রক্ত প্রবাহিত করে মস্তিস্ককে সবল ও অধিক কর্মক্ষম করতে পারে। যোগ ব্যায়াম বিশেষতঃ 'শীর্যাসন' মস্তিস্কে অধিক রক্ত পাঠিয়ে ঐ কাজ করতে পারে। সর্বাংগাসন ও মসাসন এনডোক্রীন গ্রন্থিসমূহ যথা, থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড ইত্যাদি গ্রন্থিগুরিকে রক্তস্নাত করে এদের যেমন উজ্ঝীবিত করে, অন্য কোন ব্যায়াম সে রকম করতে পারে না।