সভ্যতার
সূচনা লগ্ন থেকেই দৈহিক শক্তির জন্যে শরীরচর্চা এবং নিজেকে সুন্দর ও আকর্ষণীয়
করে তোলার জন্যে সৌন্দর্যচর্চার সূত্রপাত হয়। প্রাচীন দ্রাবিড় সভ্যতা ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়
শরীর ও সৌন্দর্যচর্চা ছিলো শিক্ষার এক প্রকার অঙ্গ। পরবর্তী প্রতিটি সভ্যতায়
আমরা দেখতে পাই এর ছাপ।
আধুনিক কালে বিজ্ঞান আমাদের
দৈহিক শ্রমের সুযোগ অনেক কমিয়ে দেয়ার শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের প্রয়োজন আরো বেড়ে গেছে।
তাছাড়া যারা দৈহিক শ্রম করেন তাদেরও দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-যেমন: হার্ট,
লিভার, কিডনি, অম্ল্যাশয়
ও অন্যান্য এন্ডোক্রাইন
গ্ল্যান্ডগুলো অর্থাৎ দেহের হরমোন প্রবাহ গতিশীল্ ও সুষম রাখার জন্যেও প্রয়োজন বিশেষ
ব্যায়াম। কারণ দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্রাঙ্গ সুস্থ ও গতিশীল রাখতে না পারলে
পেশিশক্তি এক সময় বিপর্যস্ত হয়ে যায়।।
দেহের অভ্যন্তরীণ
অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা গতিশীল করে শরীরকে সুস্থ রেখে
নিজেকে যেকোনো সাধনা বা কর্মোপযোগী করে
তোলার লক্ষেই আজ থেকে পাচ হাজার বছর আগে দ্রাবিড় সাধকরা যোগ ব্যায়াম উদ্ভাবন
করেন। বিশ শতকে পাশ্চাত্যে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনেক উন্নত, সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ হয়েছে। কিন্তু যোগ ব্যায়ামের চেয়ে উন্নত, সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ হয়েছে। কিন্তু যোগ
ব্যায়ামের চেয়ে উন্নত কোনো ব্যায়াম তারা আবিস্কার করতে পারে নি। তাই
পাশ্চাত্যে সুস্থ থাকার জন্যে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই যোগ
ব্যায়ামের প্রতি
আগ্রহী হয়ে উঠেছে। প্রতি বছরই যোগ ব্যায়ামের প্রতি আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এমনকি
হাপানি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগ নিরাময়ে অত্যন্ত
সাফল্যজনকভাবে যোগ ব্যায়ামের বিভিন্ন আসনকে প্রয়োগ করা হয়েছে।
মাংশপেশীর পুষ্টিসাধনের জন্য
নানা রকম ব্যাযাম অভ্যাস করা যায়- যেমন : খালিহাতে ব্যায়াম, বারবেল নিয়ে ব্যায়াম, প্যারালাল বার, রিং,
কুস্তি, ইত্যাদি। কিন্তু যৌগিক ব্যায়াম দেহাভ্যন্তরের স্নায়ু মন্ডলীকে, প্রস্থিগুলিকে ও অন্যান্য যন্ত্রগুলিকে
যে রকম পুষ্ট ও সবল করতে পারে, অন্য
কোন ব্যায়াম সে রকম করতে পারে না। স্নায়ুমন্ডলী আমাদের এই দেহযন্ত্রকে চালিত করে।
মস্তিস্ক স্নায়ুমন্ডলীর কেন্দ্রস্থল। এই স্থান থেকে বিভিন্ন স্নায়ুর সাহায্যে যে
আদেশ প্রেরিত হয়-তা মাংসপেশী ও বিভিন্ন পদ্ধতি আবিস্কৃত হয়নি, যা মস্তিস্কের মধ্যে প্রচুর রক্ত প্রবাহিত করে মস্তিস্ককে সবল ও
অধিক কর্মক্ষম করতে পারে। যোগ ব্যায়াম বিশেষতঃ 'শীর্যাসন' মস্তিস্কে
অধিক রক্ত পাঠিয়ে ঐ কাজ করতে পারে। সর্বাংগাসন ও মৎসাসন এনডোক্রীন গ্রন্থিসমূহ যথা, থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড ইত্যাদি গ্রন্থিগুরিকে
রক্তস্নাত করে এদের যেমন উজ্ঝীবিত করে, অন্য কোন ব্যায়াম সে রকম করতে পারে না।






0 comments:
Post a Comment